সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আমরা উলঙ্গ ???

আজকে দিনটা গেল হরতাল...সবাই যার যার মত করে দিনটা কাটিয়েছে।
হরতালের মধ্যে মানুষের কষ্টের সীমা নাই এইটা নিয়ে প্রচুর ক্যাচাল হয়...মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে...গরিব মানুষ না খেয়ে থাকে...ইত্যাদী অনেকবার অনেকভাবে বলা হয়ে গেছে। যা বলা হয় না কোনদিন তা হল, কিছু স্বাভাবিক অথচ এড়িয়ে যাওয়া মানুষের কথা। হরতাল হলেই কাদের সবচেয়ে বেশী আঘাত পাওয়ার আশঙ্কা থাকে? এক কথায় উত্তর হল- পুলিশের...

একজন পুলিশের কনস্টেবলের বেতন কত? কেউ জানেন? কত? দশ হাজার? পনের হাজার? যা ই হোক...(দারোগার কথা বলছিনা...ওদের ত ভাই বেতন কয়েক লাখ...হাহাহা...)
সেও কিন্তু আমার মত বাংলাদেশের নাগরিক...সেও কিন্তু একটি দল কে ভোট দিয়েছে...হয়ত সেই দলের ই ডাকা হরতালের মাঝে তার ডিউটি পড়েছে...কিন্তু পেটের তাগিদের উপরে কথা নাই...দলের চেয়ে পেট বড়...(আক্ষরিক অর্থে নয় !!!) তারপর ও কেন সেই পুলিশটি লাঠি মারে? মার খায়? আসুন বিশ্লেষন করি-
এক. হরতালের সময়, ঊর্ধ্বতন ওফিসারের হুকুম
দুই. বিপদের মাঝে আত্মরক্ষা করা
তিন. ঘটনার আকস্মিকতায় রিএক্ট করা
চার. গালাগালি হলে ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার অথবা বহিপ্রকাশ...

আহত হলে তাকে দেখানো হবে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের সংবাদে। ব্যান্ডেজ বাধা বা হাত ঝোলানো-পা ঝোলানো...ভাগ্য খুব ভালো হলে আমাদের মাননীয় মন্ত্রী তাকে দেখতে আসবে-আশার বানী (চিরন্তনী !) শোনাবে।টিভি ক্যামেরার সামনে গলার রগ ফুলিয়ে প্রায় চিৎকার করে বলবে- এটি বিরোধী দলের পশুসুলভ আচরনের নমুনা।আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ করি।অপরাধী যেখানেই থাকুক তাকে আইনের মাঝে নিয়ে আসা হবে।আমাদের নেত্রী ... জননেত্রী...বকর বকর ... বকর বকর বকর...(সব সরকারের আমলেই এক ই কথা শুধু নাম গুলো চেঞ্জ করে নিবেন)
ওই পুলিশটির কথা আমরা কিন্তু ওইদিন ই ভুলে যাই। টিভি/সাংবাদিক ও ভুলে যায়...সে চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেলো কিনা জানা যায় না...তার পরিবার কি উৎকণ্ঠায় থাকে তা কেউ দেখি না...কি করে বাকি দিনগুলো কাটায় তা কেউ দেখে না...

এবার আসুন আরেকটি দিক দেখি, কে কে এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী?
এক কথায় প্রকাশ- রাজনৈতিক নেতা-নেত্রী...(ওয়াক থুঃ...মুখ ধুয়ে আসি...)

আমাদের দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী হরতালের আগেরদিন জনসভায় বলেন- আমাদের দলের কর্মীদের পথে থাকতে হবে হরতাল প্রতিহত করতে...(WTF ???!!!) তার মানে উনি কি দলের লোকদের কে মেরে লাশ ফেলার লাইসেন্স দিচ্ছেন? পুলিশ আছে কি করতে? ওনাকে কে এই অধিকার দিয়েছে? এই জাতীয় কথাবার্তা মানিকদি বাজারের চিতই পিঠা ওয়ালীর মুখে শোভা পায়... নির্বাচিত এমপি বা মন্ত্রীর মুখে নয়...

বিরোধী দলের নেতা বলেন- আপনারা নিজেদের সবটুকু শক্তি দিয়ে এই হরতাল সফল করুন...তারা "সফল" বলতে কি বোঝান? বাস দেখলে ইটা মারো... বেবিটেক্সির পাম্প ছাড়ো... শপিং মলের গ্লাশ ভাঙ্গো...পুলিশ পেলে দূরে থেকে ঢিল মারো...ককটেল মারো...

পুলিশের যেই গাড়িটা আজকে পুড়বে, সেটার টাকা কি উনি দিয়েছেন? নাকি আমার মত-আপনার মত দেশের মানুষের ট্যাক্স থেকে এসেছে? যেই স্কুল-কলেজগূলো বন্ধ হল, সেগুলোতে উনাদের (সু)পুত্র-মাইয়া পড়ে? উনাদের পোলা-মাইয়া ত oh shit !!! poor country...বলতে বলতে মুখে ফ্যানা তুলে ফেলে eminem/50cent এর গান ফুল ভলিউমে lexus/bmw তে বাজানোর সময়...ওরা কি আমাদের মত হরতালে জানের বাজী রেখে অফিসে যায়? অথবা অফিসে না গিয়ে একদিনের বেতন হারায়?

ভাই...অনেক ত দেখলাম...অনেক গ্যাজাইলাম...
-আমাদের দেশে কি মৃত্যুকূপ রাস্তা নিয়ে হরতাল হয়?
-খাবারের ভেজাল বিষ নিয়ে হরতাল হয়?
-এমপি দের ভাতা বৃদ্ধি ঠেকাতে হরতাল হয়?
-আইনবিভাগ/সংবাদ মাধ্যম কে স্বাধীনতা দেওয়ার জন্য হরতাল হয়?
-ছাত্র রাজনীতি বন্ধের জন্য হরতাল হয়?
-অসহায় বেতনহীন প্রাইমারী শিক্ষকদের বেতন দেওয়ার দাবীতে হরতাল হয়?

আসলেই কি আমাদের নেতানেত্রীর সব দোষ? আরেকবার ভাবুন ত... পড়াশুনার সবচেয়ে মেধাবী ছাত্রটি কি আমাদের প্রতিনিধি হচ্ছে? নাকি এক সময়ের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী আমাদের এমপি হয়ে আমাদেরকে মুখে চুষনী দিয়ে দিচ্ছে? আসুন না ... আরেকবার একটু আয়নার সামনে দাড়াই... লজ্জা কিসের? "ল্যাংটার নাই বাটপারের ভয়"... আর কতদিন কতদুর গেলে আমরা বুঝবো যে আমরা উলঙ্গ ???

-সায়ন আনজীর
২২.০৯.২০১১

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ছেঁড়া নকশি কাঁথা

বাংলাদেশ নতুন করে ৩৬ জুলাই ২৪ এ স্বাধীন হলো।  অনেক রক্ত আর আন্দোলনের পর ১৫/১৬ বছরের রেজিম বিদায় নিয়েছে - অত্যাচার আর বঞ্চণার পর যেন এদেশে মানুষ নিজেদের কণ্ঠ নিজেরা শুনতে পেয়েছে অনেক বছর পর ...কিন্তু নিজেদের কণ্ঠ শুনে কেমন যেন নিজেরাই চমকে যাওয়ার মতো অবস্থা সবার ! এরপর সবাই জানি প্রফেসর ইউনুস দেশের হাল ধরেছেন সমন্বক দের অনুরোধ রক্ষা করে - ইন ফ্যাক্ট উনার নিজের ও ইচ্ছা ছিল সেটা অবশ্য অন্য আলাপ ! আমি নিজে একজন সাধারণ নাগরিক হিসাবে কি কি উপলব্ধি করলাম আর কি কি করা উচিত ছিল বলে মনে করি সেটা নিয়ে আমার এই ইতিহাসে লিখে রাখার চেষ্টা মাত্র সুতরাং একদম কড়া রাজনৈতিক বা জিয়োপলিটিকাল আলাপ এর দিকে না যাই ।  শুরুতেই বলি আমি নিজেকে নির্ভেজাল একজন সাধারণ নাগরিক মনে করি এবং এই কারণে আমার দেশত্ববোধ এবং জাতীয়তা নিয়ে আমি যেকোনো পরিস্থিতি তে কোন শর্ত ছাড়াই দেশের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ফেলি। এক্ষেত্রে আমার দল মত বা ব্যক্তি কখনোই প্রাধান্য পায়নাই এবং পাওয়ার কোন সম্ভাবনা ও নাই। আমার মত এ বাংলাদেশের মানুষ কে সন্তুষ্ঠ করা অনেক সহজ - শুধু তিনটি প্রধান চাহিদা - এক, খাদ্যের দাম কম হতে হ...

দিন শেষে মাছি পাশে থাকে

 পদ্য ? অসুস্থ প্রজন্ম জীবন শেখে টিভির আয়নায় কাল কেয়ামত হলে লাইভ হবে কোন চ্যানেলে  যুক্তি যেখানে মুখ লুকায় ক্ষমতার ছায়াতে  সেখানে বাসমতী চাউলের সুঘ্রান কুকুর ছাড়া কেউ পায়না দম্ভ আর নিজের দিকে আলোকিত করার তীব্রতা ঝাঁজরা করে দেয় বিবেকের অথর্ব গম্ভীরতার কাঁচ  সবাই দৌড়ায় কে কাকে ধাক্কা দিয়ে এক পা সামনে থাকবে রক্ত আর ধুলার জমাট কাদায় পা ডুবিয়ে চাটুকারের দল সম্মান আর শ্রদ্ধা যুদ্ধ করে স্বার্থের সাথে  নির্বিকার দাড়িয়ে থাকে সভ্যতা আপন শান্তির বিনিময়ে দিনশেষে একঝাক ভনভনে মাছি থাকে পাশে, দিন শেষে... -সায়ন ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩

Know Thyself - First !!!

নিতান্ত সভ্যতা প্রসূত বিবেক থেকে মাঝে মাঝে কিছু অযাচিত যন্ত্রনা তৈরি হয়। সেগুলো আস্তে আস্তে এমন তীব্রতর হয়ে ওঠে যে তখন মনে হয় কিছু না বলে না করে চুপ থাকাটা নিজের সাথে প্রতারনা ছাড়া আর কিছুই না। কিছুদিন আগে এমন এক Linkedin যন্ত্রনা ছিল, যাদের নাম ছিল professional CV writer. এদের কাজ ছিল আপনার নামে ইতং বিতং চাপাবাজি করে আপনাকে বিপদে (!) ফেলা। এবং এই কাজটা তারা এতটাই confidently করা শুরু করে দিল যে অনেকে confused হয়ে গেল ব্যাপারটা আদৌ objectionable কিনা তা নিয়ে। বিপদ জিনিষটা একটু খোলাসা করে দেই- সিভি ব্যাপারটা আপনার “জীবন বৃত্তান্ত”... সেটার উপরে depend করে আপনার মূল্যায়ন হবে বলেই আপনি সেই “জীবন” এমনভাবে ফুলিয়ে ফাপিয়ে আরেকজন কে দিয়ে present করলেন যে আপনি নিজেই জানেন না আপনার “জীবন”- এ আপনি কি কি করেছেন আর করেন নাই। এবার আসি আরেক নতুন Linkedin যন্ত্রনার পরিচয় করিয়ে দেই। এরা নিজেরা মনে করে এরা সেলস বা মার্কেটিং এ বিশাল সাফল্য অর্জন করে ফেলসে, নিজে অনেক বা* ছিঁড়ে এখন অন্যদের কে জ্ঞান দিয়ে জন সাধারনের সামনে নিজেকে বিশাল বিদ্যাধর প্রমান করার জন্য এরা বড় বড় Linkedin পোস্ট দিয়ে বিভিন্ন...