আমাদের কিছু কথা বার বার লিখব লিখব করেও লেখা হয়ে উঠছিল না, অবশেষে চান্স পেলাম- আমরা বাঙালি ?! নাকি বাংলাদেশি ??!! এই বিতর্ক এখনো চলছে স্বাধীনতার ৪০ বছর পরেও- আমাদের প্রথম সফল ২ রাষ্ট্রনেতা শহীদ হয়েছেন কিছু পিশাচের হাতে যাদের কে এখনো আমরা পুরোপুরি শাস্তি দিতে পারিনি...জাতি হিসাবে আমরা এখনো বড়াই করি অতীত নিয়ে...ভবিষ্যত নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা আমরা সারাই ভেজাল ওষুধ দিয়ে...
আমরা বাঙালি-নাকি বাংলাদেশি এটা নিয়ে ক্যাচাল করার অর্থ অনেকটা আমি কি আমার বাবার নাকি মা-র সন্তান সেইরকম আরকি...কিন্তু তারপর ও এটা নিয়ে আমাদের নেতা নেত্রীর ঘুম হারাম হয়ে যায়...মানুষগুলোর বেইল নাই নাম নিয়ে টানাটানি...বাঙ্গালি বা বাংলাদেশী নিয়ে কত গুলো পর্যবেক্ষণ আছে আমার কাছে...(উইকিলিক্স এ প্রকাশ পায় নাই কেন সেটা নিয়ে এখনও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চলছে তবে আমি নিশ্চিত এটা সরকারের বা বিরোধী দলের হীন ষড়যন্ত্র !!!)
আমরা ভীষন অলস জাতি- এ কথাটা আমরা স্বীকার করি আর নাই করি, আমরা যে কাজে কয়েক ঘন্টা ব্যয় করলেই পারি, সেটা করতে কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস অতিক্রম করতে দ্বিধা করি না (সরকারি অফিস দ্রষ্টব্য !) দুর্নীতি দুর্নীতি বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলি কিন্তু রাস্তা পার হবার সময় অভারব্রীজ ব্যবহার না করে হাত উচিয়ে গাড়ি থামানোর চেষ্টা করি। খাবারের ভেজাল ভেজাল বলে ফিট খাই মাগার রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে মূত্র বিসর্জন করে স্বর্গীয় সুখলাভ করি। মন্ত্রী এমপি কে গালাগালি করে কব্বর থেকে মূরদা তুলে ফেলী কিন্তু নিজের বাসার সামনে ময়লা ফেলে রাখি ডাস্টবিনে গিয়ে ফেলতে "পা-ও বেদনা" করে... -এটুকু পড়ে মনে হতে পারে কি প্যাচাল লাগাইলো "অলস" এর সাথে এগুলোর সম্পর্ক কি..."অলস" বলতে শুধু কাজ না করে বসে থাকা নয়। অলসতা হল কোন কাজের ownership না নেয়া। নিজের দ্বায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া বা অন্যের ঘাড়ে বেমালুম তুলে দেওয়া। কোন কাজ deadline এর মাঝে না করা। in fact deadline ব্যাপারটা অনেক হোমড়া-চোমড়া বোঝে কি না জানিনা... আমাকে কোন কাজ দেওয়া হলে আমি-ই সেটার জন্য responsible।আমার সেই কাজটার জন্য অনেক আগে থেকেই risk management করে নিয়ে সেই অনুযায়ী resource allocation করে নিতে হবে...আমরা কাজটা কি সেটাই ভুলে যাই , এত্ত ভুজুং ভাজুং এর time আছে?
আয়েশী-আড্ডাবাজঃ আমাদের মত করে আয়েশ করে পায়েস বোধ হয় মোগল সম্রাট গন খাইতেন...অতঃপর পটল তুলিতেন ! আমাদের দেশে স্কুল এ পড়া একটি শিশুর লক্ষ্য থাকে কলেজে ওঠার...কলেজে পড়ুয়ার লক্ষ্য থাকে ভালো ইউনিভারসিটি বা মেডিকেল কলেজে পড়ার...মেডিকেল বা ভার্সিটি পাশ করা একজনের লক্ষ্য হল ভালো একটি চাকুরী করার...ব্যস...শেষ...চাকুরীতে ঢুকে গেলেই মধ্যদেশ স্ফীত করে আয়েশ করে দোস্তগনের সাথে ছুট আর আড্ডা...এর পরে কিন্তু আরো অনেক লক্ষ্য থাকে...থাকা উচিত... কিন্তু থাকেনা...বলছিনা বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়াটা দোষের কিন্তু লক্ষ্য গুলিয়ে খেয়ে ফেলে মলত্যাগ করে দিলেই জীবন ধন্য ?! আমাদের দেশের কেউ কি ভাবে না নিজেকে আরো উপরে নিয়ে যাবার? রবীন্দ্রনাথ যদি সাহিত্যে পারে... ডঃ ইউনুস যদি শান্তিতে (নতুন theme or concept) এর জন্য পারে... আমাদের মাঝে কি কেউ নেই অন্তত কৃষিতে কিছু করে সেটাকে আনবার? আছেন অনেকেই হয়ত...কিন্তু "ধুর ! ওসব করে কি হবে"- ভেবে off যান... আমরা আড্ডাতে যত বিষয় নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা করি তার ২৫% যদি ব্যক্তি জীবনে কাজে লাগাই আমাদের অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব। আর সরকারি আড্ডার কথা বাদ ই দিলাম...সরকারি আড্ডা বোঝেন নাই? সরকারি অফিসে মিটিং এর নামে একসাথে সিটিং করে eating সহকারে গন চিটিং এর নাম সরকারি আড্ডা...
পরশ্রীকাতরঃ আমাদের এই গুণটি অতুলোনীয়। আমাদের সারাদিনের কর্মকান্ডের অনেকটুকু জুড়ে আছে কে কি করলো আর কার কি করলে ভালো হত তা নিয়ে তুমুল গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা (in fact, আমার এই লেখাও কিন্তু তুমুল গুরুত্বপূর্ণ ভাবে সমালোচনা...হিহিহি) আমরা কখনই অন্যের গুণগুলো চোখে দেখি না ...খুঁতগুলো খুজে পেতে আমাদের জিহবাতে জল চলে আসে...(সুড়ুত !) তার মানে কি আমাদের দেশে ভাল কিছু হয় না...হয়...দেশে নতুন নতুন অনেক মহাসড়ক হয়েছে...বিশাল বিশাল সেতু হয়েছে... ২-স্ট্রোক ইঞ্জিন নিষিদ্ধ হয়েছে... পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ হয়েছে...নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মাছশিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছে... নতুন শিক্ষাব্যবস্থা চালু হতে যাচ্ছে... বাধ্যতামূলক করা হয়েছে সিটবেল্ট আর হেলমেট... দেশে তৈরী হচ্ছে মোটর বাইক, এসি, ফ্রীজ...সামনে নাকি ল্যাপটপ আর গাড়ি ও হবে... কিন্তু এগুলো আমাদের দেশের কেউ কয়বার positive মনোভাব নিয়ে বলে বা স্বীকার করে? এমনকি এগুলোতে যাদের অবদান, তারা ও এগুলোর credit নিতে পারেন না বা নেওয়ার চান্স পান না আরেকজনের ছিদ্রান্বেষনে সময় হারিয়ে ফেলে ! ৫ জন একসাথে কোথাও দাঁড়ালেই শুরু হয়ে যায় গনগীবত প্রতিযোগিতা...জাত-পাত-ধর্ম-বর্ণ বাছ বিচার তখন কেউ ই করে না... পাশের বাসার পোষা কুত্তা থেকে শুরু করে যতদুর যাওয়া যায় - আমরা আছি তোমার দোষ বের করতে- তুমি সে যত ভালো কাজ ই কর না কেন... এর জন্য আমরা আবার একটি বিশেষ শব্দ-ও আবিস্কার করেছি- "গঠন মূলক সমালোচনা"... (criticism কখনই positive হয় না... বুঝলাম না বাঙ্গাল রা এইটা কি বাইর করল ??!!)
অনেক কথা বলে ফেলেছি। এখন যাই, আমাকে আবার আড্ডা দেবার জন্য খেয়ে ready হতে হবে কারন অনেকের অনেক ব্যাপার আমার ভালো লাগছে না...এগুলো ভালো কাজ বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে...ওদের গুষ্টি rescue না করলে আমার আবার loose motion হতে পারে... ও হ্যা ভালো কথা...আমার এই লেখাটাকে পচাতে ভুলবেন না কিন্তু...
সায়ন
০৫.১০.২০১১
আমরা বাঙালি-নাকি বাংলাদেশি এটা নিয়ে ক্যাচাল করার অর্থ অনেকটা আমি কি আমার বাবার নাকি মা-র সন্তান সেইরকম আরকি...কিন্তু তারপর ও এটা নিয়ে আমাদের নেতা নেত্রীর ঘুম হারাম হয়ে যায়...মানুষগুলোর বেইল নাই নাম নিয়ে টানাটানি...বাঙ্গালি বা বাংলাদেশী নিয়ে কত গুলো পর্যবেক্ষণ আছে আমার কাছে...(উইকিলিক্স এ প্রকাশ পায় নাই কেন সেটা নিয়ে এখনও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চলছে তবে আমি নিশ্চিত এটা সরকারের বা বিরোধী দলের হীন ষড়যন্ত্র !!!)
আমরা ভীষন অলস জাতি- এ কথাটা আমরা স্বীকার করি আর নাই করি, আমরা যে কাজে কয়েক ঘন্টা ব্যয় করলেই পারি, সেটা করতে কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস অতিক্রম করতে দ্বিধা করি না (সরকারি অফিস দ্রষ্টব্য !) দুর্নীতি দুর্নীতি বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলি কিন্তু রাস্তা পার হবার সময় অভারব্রীজ ব্যবহার না করে হাত উচিয়ে গাড়ি থামানোর চেষ্টা করি। খাবারের ভেজাল ভেজাল বলে ফিট খাই মাগার রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে মূত্র বিসর্জন করে স্বর্গীয় সুখলাভ করি। মন্ত্রী এমপি কে গালাগালি করে কব্বর থেকে মূরদা তুলে ফেলী কিন্তু নিজের বাসার সামনে ময়লা ফেলে রাখি ডাস্টবিনে গিয়ে ফেলতে "পা-ও বেদনা" করে... -এটুকু পড়ে মনে হতে পারে কি প্যাচাল লাগাইলো "অলস" এর সাথে এগুলোর সম্পর্ক কি..."অলস" বলতে শুধু কাজ না করে বসে থাকা নয়। অলসতা হল কোন কাজের ownership না নেয়া। নিজের দ্বায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া বা অন্যের ঘাড়ে বেমালুম তুলে দেওয়া। কোন কাজ deadline এর মাঝে না করা। in fact deadline ব্যাপারটা অনেক হোমড়া-চোমড়া বোঝে কি না জানিনা... আমাকে কোন কাজ দেওয়া হলে আমি-ই সেটার জন্য responsible।আমার সেই কাজটার জন্য অনেক আগে থেকেই risk management করে নিয়ে সেই অনুযায়ী resource allocation করে নিতে হবে...আমরা কাজটা কি সেটাই ভুলে যাই , এত্ত ভুজুং ভাজুং এর time আছে?
আয়েশী-আড্ডাবাজঃ আমাদের মত করে আয়েশ করে পায়েস বোধ হয় মোগল সম্রাট গন খাইতেন...অতঃপর পটল তুলিতেন ! আমাদের দেশে স্কুল এ পড়া একটি শিশুর লক্ষ্য থাকে কলেজে ওঠার...কলেজে পড়ুয়ার লক্ষ্য থাকে ভালো ইউনিভারসিটি বা মেডিকেল কলেজে পড়ার...মেডিকেল বা ভার্সিটি পাশ করা একজনের লক্ষ্য হল ভালো একটি চাকুরী করার...ব্যস...শেষ...চাকুরীতে ঢুকে গেলেই মধ্যদেশ স্ফীত করে আয়েশ করে দোস্তগনের সাথে ছুট আর আড্ডা...এর পরে কিন্তু আরো অনেক লক্ষ্য থাকে...থাকা উচিত... কিন্তু থাকেনা...বলছিনা বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়াটা দোষের কিন্তু লক্ষ্য গুলিয়ে খেয়ে ফেলে মলত্যাগ করে দিলেই জীবন ধন্য ?! আমাদের দেশের কেউ কি ভাবে না নিজেকে আরো উপরে নিয়ে যাবার? রবীন্দ্রনাথ যদি সাহিত্যে পারে... ডঃ ইউনুস যদি শান্তিতে (নতুন theme or concept) এর জন্য পারে... আমাদের মাঝে কি কেউ নেই অন্তত কৃষিতে কিছু করে সেটাকে আনবার? আছেন অনেকেই হয়ত...কিন্তু "ধুর ! ওসব করে কি হবে"- ভেবে off যান... আমরা আড্ডাতে যত বিষয় নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা করি তার ২৫% যদি ব্যক্তি জীবনে কাজে লাগাই আমাদের অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব। আর সরকারি আড্ডার কথা বাদ ই দিলাম...সরকারি আড্ডা বোঝেন নাই? সরকারি অফিসে মিটিং এর নামে একসাথে সিটিং করে eating সহকারে গন চিটিং এর নাম সরকারি আড্ডা...
পরশ্রীকাতরঃ আমাদের এই গুণটি অতুলোনীয়। আমাদের সারাদিনের কর্মকান্ডের অনেকটুকু জুড়ে আছে কে কি করলো আর কার কি করলে ভালো হত তা নিয়ে তুমুল গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা (in fact, আমার এই লেখাও কিন্তু তুমুল গুরুত্বপূর্ণ ভাবে সমালোচনা...হিহিহি) আমরা কখনই অন্যের গুণগুলো চোখে দেখি না ...খুঁতগুলো খুজে পেতে আমাদের জিহবাতে জল চলে আসে...(সুড়ুত !) তার মানে কি আমাদের দেশে ভাল কিছু হয় না...হয়...দেশে নতুন নতুন অনেক মহাসড়ক হয়েছে...বিশাল বিশাল সেতু হয়েছে... ২-স্ট্রোক ইঞ্জিন নিষিদ্ধ হয়েছে... পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ হয়েছে...নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মাছশিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছে... নতুন শিক্ষাব্যবস্থা চালু হতে যাচ্ছে... বাধ্যতামূলক করা হয়েছে সিটবেল্ট আর হেলমেট... দেশে তৈরী হচ্ছে মোটর বাইক, এসি, ফ্রীজ...সামনে নাকি ল্যাপটপ আর গাড়ি ও হবে... কিন্তু এগুলো আমাদের দেশের কেউ কয়বার positive মনোভাব নিয়ে বলে বা স্বীকার করে? এমনকি এগুলোতে যাদের অবদান, তারা ও এগুলোর credit নিতে পারেন না বা নেওয়ার চান্স পান না আরেকজনের ছিদ্রান্বেষনে সময় হারিয়ে ফেলে ! ৫ জন একসাথে কোথাও দাঁড়ালেই শুরু হয়ে যায় গনগীবত প্রতিযোগিতা...জাত-পাত-ধর্ম-বর্ণ বাছ বিচার তখন কেউ ই করে না... পাশের বাসার পোষা কুত্তা থেকে শুরু করে যতদুর যাওয়া যায় - আমরা আছি তোমার দোষ বের করতে- তুমি সে যত ভালো কাজ ই কর না কেন... এর জন্য আমরা আবার একটি বিশেষ শব্দ-ও আবিস্কার করেছি- "গঠন মূলক সমালোচনা"... (criticism কখনই positive হয় না... বুঝলাম না বাঙ্গাল রা এইটা কি বাইর করল ??!!)
অনেক কথা বলে ফেলেছি। এখন যাই, আমাকে আবার আড্ডা দেবার জন্য খেয়ে ready হতে হবে কারন অনেকের অনেক ব্যাপার আমার ভালো লাগছে না...এগুলো ভালো কাজ বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে...ওদের গুষ্টি rescue না করলে আমার আবার loose motion হতে পারে... ও হ্যা ভালো কথা...আমার এই লেখাটাকে পচাতে ভুলবেন না কিন্তু...
সায়ন
০৫.১০.২০১১
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন