সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

Pipeline of CEOs

কয়েকদিন আগেই দেখলাম ইন্ডিয়ান বংশোদ্ভূত সিইও দের কে নিয়ে অনেক লাফ ঝাপ দেওয়া হল। অনেকে অনেক কথা বললেও একটা বেসিক কথা কিন্তু ঠিকই উঠে এসেছে... শিক্ষার মান!!! 

হঠাত এই কথা বলার মানে আর কিছুই না, সিলেটে আমাদের দেশের গর্বের স্থান শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলন। অবাক করার বিষয় হল, আপাত দৃষ্টিতে এটা অনেক নবীন একটা বিশ্ববিদ্যালয় কিন্তু সেই তুলনায় আন্দোলনের দিক থেকে অনেক এগিয়ে। অনেক প্রতিবাদ আর প্রগতির আইডল হয়ে দাঁড়িয়ে গেছে এরা। কেন? বারবার ওরাই কেন? তুলনামূলক ভাবে শিক্ষাগত দিক দিয়ে পশ্চাতপদ জনপদের মাঝখানে কিভাবে এরা এমন একটা সামনের সারির সুনামধারী বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা আস্তে আস্তে দখল করে নিল? কারন অনেকগুলো। নবীন হলেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশির ভাগ মানুষের চোখ খোলা (আবার অনেকে কাঠের চশমা পরে ক্ষমতার লোভে চাটাচাটি করে, কিন্তু সেটা খুব কম)। তারা অনেক আগে থেকে ঘরে বসেও দুনিয়া দেখা আয়ত্ব করা শিখে গিয়েছে। সাথে সাথে সেইটাকে কাজে লাগিয়ে বাস্তবে কেরিয়ার আর বিজনেস সেন্স কিভাবে মনেটরি কনভারশন হবে তা-ও বের করে ফেলেছে। তাদের সাথে চুদুর বুদুর করে পার পাওয়া মুশকিল। অন্যান্য জায়গায় শ্লোগান দিয়ে হেলমেট পরায়া লেলিয়ে দিয়ে কাজ হলেও এখানে এভাবে কাজ হয়না। কারন যারা নেমে যাবে তাদের পাশে পাশে হেল্মেট পড়া ছেলেটিও ভাবে নিজের ৪ বছর পরের অবস্থানের জন্য গ্রেটার স্বার্থ কোনটা। 

না আমি এখানের ছাত্র ছিলাম না। কিন্তু আমার অনেক peer আর বন্ধু network এর কল্যানে এখানের অনেক কিছুই আমার জানা। 

কিন্তু আসল কথা অইখানে না, আমার আসল উদ্দেশ্য ছিল আমার প্রথম লাইনটা নিয়ে কথা বলা। আমরা খুব বড় বড় কথা বলি। আমাদের দেশের অনেক লোক বড় বড় জায়গায় আছে... বুঝলাম। তাদের কয়জন আমাদের দেশে পড়াশুনা করে অইখানে অই বড় জায়গায় গিয়ে বসছে? মাথা চুল্কায়া চল্টা তুলে ফেললেও কয়টা বের হবে জানি না। আমাদের সরষের মধ্যে ভুত কে তাড়াবে?

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কয়জন বুকে হাত দিয়ে বলতে পারে যাদের কে শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে তার থেকে যোগ্যতম প্রার্থীকে সাদা দল, লাল দল, হলুদ দল ইতং বিতং এর কারনে নেওয়া হয়নি? অমুকের আত্মীয়, তমুকের শালা আর অমুক দলের প্রাক্তন নেতার ভীরে কয়টা পড়ুয়া ভাল ছাত্রের ঠ্যাকা পরসে ধাক্কাধাক্কি করে শিক্ষক হওয়ার? তার চেয়ে বাইরে বা বিদেশে যাওয়া তার জন্য obviously better option ! কেউ কেউ logic দাড় করায়ে দিবে, ভাল ছাত্র হলেই ভাল শিক্ষক না... জ্বি ভাই, তাদের জন্য বলি... ধরেন কালকে বাংলাদেশের দিকে একটা ধুমকেতু ছুটে আসতেসে! হাতে ২৪ ঘন্টা সময়। পৃথিবীর অন্য কোন দেশ উপায় দিতে করতে রাজি না। আমাদের একমাত্র বাঁচার রাস্তা বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটকে ধুমকেতু কক্ষপথে নিয়ে এসে intercept করে বাঁচা। এখন এই কক্ষপথে আনার দ্বায়িত্ব কি আপনি আত্মীয় বা শালা কোটাতে আসা শিক্ষক কে দিবেন না ক্লাসের ফার্স্ট বয়টাকে দিবেন? (মুফতে সেই একটা সাই-ফাই সিনেমার প্লট দিয়ে দিলাম ...) যান আরো সহজ করে দেই... আপনার খুব জটিল একটা সার্জারি করতে হবে... আপনার অপশন শালা কোটা তে পাশ করা ডাক্তার আর সেই ক্লাসের ফার্স্ট বয়... (ইন্সুরেন্স এর নোমিনি পাল্টায়ে নিয়েন...)

আমাদের entire supply chain এই সমস্যা! পাশের দেশ যখন আইটি outsourcing, call center, back office নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন আমরা কি নিয়ে লাফাই? লাখ টাকার App কে ফুলিয়ে ফাপিয়ে শত কোটিতে নিয়ে গিয়ে সেটার বাজারের উপকারীতার screen saver (পড়েন মিথ্যা আশ্বাস) দেখিয়ে ফান্ড বের করার চিপা খুঁজতে। ধুমায়া বড় বড় বিল্ডিং ঝা চকচকা করে দাড় করিয়ে গাল্ভরা আইটি ঘেষা নাম দিয়ে ঘোষণা দিতে, যেন মানুষ মনে করে ওররে বাপ্রে এইটা না জানি আইটির কত কিছু করতেসে!!! এসব অনেক পরের step! বলতেসি না যে কাজের না, কিন্তু এই মুহূর্তে এইগুলার আসলেই কাজ নাই। উদাহরন দেই, আমাদের দেশে proper coder or programmer বের হওয়ার কোন pipeline এখন পর্যন্ত তৈরি হয় নাই। যারা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে programmer or coder হয়ে বের হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে আসে তারা বেশির ভাগই self taught. হ্যা, অংক করার জন্য রাস্তা দেখিয়ে দেওয়া আর অংক নিয়ে পরে থাকার মধ্যে পার্থক্য আছে। কিন্তু আমার কথা হল, যারা শ্রমিক হিসাবে কাজ করবে (code/program writer) তাদের স্কুল কয়টা? বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করা ছেলেটা নিজেকে programmer এর চেয়ে programmer দের manager হওয়ার জন্য বেশি আগ্রহি। তাহলে আমাদের সেই manager এর নিচের স্তরের মানুষগুলোর সাপ্লাই চেইন কই? মার্কেটিং এ পাশ করা ছেলেটা বাজারে ব্র্যান্ড দাঁড় করাতে চমক দেখানো ATL করার জন্য মুখিয়ে থাকে কিন্তু আদতে মার্কেটে তার কোন রূটের কোন ডিলার কোন প্রোডাক্ট কোন shelf এ কতদিন কেন রাখছে সেইটা সে জানে না। জানেনা তার ROI কতদিনে আসবে আর আসলেও আদৌ তার কতটুকু মনেটরি আর কতটুকু ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি হিসাবে?

ফিল্টারের পর ফিল্টারিং হওয়া এইসব ছাত্ররা অনেক কিছু জানে, কিন্তু ওদের কে সামনে এগিয়ে bigger picture পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার পথের mentor ই যদি ঠিক না থাকে তাহলে আর multinational giant এর সিইও নিয়ে কথা বলার জন্য কয়েকদিন পরে দেশি company-র manager ও তৈরী হবে না। নাকি এভাবে step by step মেধা কে ছাঁচে ফেলে ঠুলি পরেই এগিয়ে যাবে সবাই? 


সায়ন 

২৭ জানুয়ারী ২০২২    

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ছেঁড়া নকশি কাঁথা

বাংলাদেশ নতুন করে ৩৬ জুলাই ২৪ এ স্বাধীন হলো।  অনেক রক্ত আর আন্দোলনের পর ১৫/১৬ বছরের রেজিম বিদায় নিয়েছে - অত্যাচার আর বঞ্চণার পর যেন এদেশে মানুষ নিজেদের কণ্ঠ নিজেরা শুনতে পেয়েছে অনেক বছর পর ...কিন্তু নিজেদের কণ্ঠ শুনে কেমন যেন নিজেরাই চমকে যাওয়ার মতো অবস্থা সবার ! এরপর সবাই জানি প্রফেসর ইউনুস দেশের হাল ধরেছেন সমন্বক দের অনুরোধ রক্ষা করে - ইন ফ্যাক্ট উনার নিজের ও ইচ্ছা ছিল সেটা অবশ্য অন্য আলাপ ! আমি নিজে একজন সাধারণ নাগরিক হিসাবে কি কি উপলব্ধি করলাম আর কি কি করা উচিত ছিল বলে মনে করি সেটা নিয়ে আমার এই ইতিহাসে লিখে রাখার চেষ্টা মাত্র সুতরাং একদম কড়া রাজনৈতিক বা জিয়োপলিটিকাল আলাপ এর দিকে না যাই ।  শুরুতেই বলি আমি নিজেকে নির্ভেজাল একজন সাধারণ নাগরিক মনে করি এবং এই কারণে আমার দেশত্ববোধ এবং জাতীয়তা নিয়ে আমি যেকোনো পরিস্থিতি তে কোন শর্ত ছাড়াই দেশের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ফেলি। এক্ষেত্রে আমার দল মত বা ব্যক্তি কখনোই প্রাধান্য পায়নাই এবং পাওয়ার কোন সম্ভাবনা ও নাই। আমার মত এ বাংলাদেশের মানুষ কে সন্তুষ্ঠ করা অনেক সহজ - শুধু তিনটি প্রধান চাহিদা - এক, খাদ্যের দাম কম হতে হ...

দিন শেষে মাছি পাশে থাকে

 পদ্য ? অসুস্থ প্রজন্ম জীবন শেখে টিভির আয়নায় কাল কেয়ামত হলে লাইভ হবে কোন চ্যানেলে  যুক্তি যেখানে মুখ লুকায় ক্ষমতার ছায়াতে  সেখানে বাসমতী চাউলের সুঘ্রান কুকুর ছাড়া কেউ পায়না দম্ভ আর নিজের দিকে আলোকিত করার তীব্রতা ঝাঁজরা করে দেয় বিবেকের অথর্ব গম্ভীরতার কাঁচ  সবাই দৌড়ায় কে কাকে ধাক্কা দিয়ে এক পা সামনে থাকবে রক্ত আর ধুলার জমাট কাদায় পা ডুবিয়ে চাটুকারের দল সম্মান আর শ্রদ্ধা যুদ্ধ করে স্বার্থের সাথে  নির্বিকার দাড়িয়ে থাকে সভ্যতা আপন শান্তির বিনিময়ে দিনশেষে একঝাক ভনভনে মাছি থাকে পাশে, দিন শেষে... -সায়ন ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩

Know Thyself - First !!!

নিতান্ত সভ্যতা প্রসূত বিবেক থেকে মাঝে মাঝে কিছু অযাচিত যন্ত্রনা তৈরি হয়। সেগুলো আস্তে আস্তে এমন তীব্রতর হয়ে ওঠে যে তখন মনে হয় কিছু না বলে না করে চুপ থাকাটা নিজের সাথে প্রতারনা ছাড়া আর কিছুই না। কিছুদিন আগে এমন এক Linkedin যন্ত্রনা ছিল, যাদের নাম ছিল professional CV writer. এদের কাজ ছিল আপনার নামে ইতং বিতং চাপাবাজি করে আপনাকে বিপদে (!) ফেলা। এবং এই কাজটা তারা এতটাই confidently করা শুরু করে দিল যে অনেকে confused হয়ে গেল ব্যাপারটা আদৌ objectionable কিনা তা নিয়ে। বিপদ জিনিষটা একটু খোলাসা করে দেই- সিভি ব্যাপারটা আপনার “জীবন বৃত্তান্ত”... সেটার উপরে depend করে আপনার মূল্যায়ন হবে বলেই আপনি সেই “জীবন” এমনভাবে ফুলিয়ে ফাপিয়ে আরেকজন কে দিয়ে present করলেন যে আপনি নিজেই জানেন না আপনার “জীবন”- এ আপনি কি কি করেছেন আর করেন নাই। এবার আসি আরেক নতুন Linkedin যন্ত্রনার পরিচয় করিয়ে দেই। এরা নিজেরা মনে করে এরা সেলস বা মার্কেটিং এ বিশাল সাফল্য অর্জন করে ফেলসে, নিজে অনেক বা* ছিঁড়ে এখন অন্যদের কে জ্ঞান দিয়ে জন সাধারনের সামনে নিজেকে বিশাল বিদ্যাধর প্রমান করার জন্য এরা বড় বড় Linkedin পোস্ট দিয়ে বিভিন্ন...